ফুটবল বিশ্বকাপ এখনও মাঠে গড়ায়নি, কিন্তু তার আগেই উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে ঢাকার সাভারের আমিনবাজারে। বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী ৪৮টি দেশের পতাকা এবং বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা দিয়ে সাজানো হয়েছে গাবতলী সেতুর একাংশ। ব্যতিক্রমী এই আয়োজন শুধু ফুটবলপ্রেমীদেরই আকর্ষণ করছে না, বরং সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও বিশ্বকাপের আনন্দকে এক সুতোয় গেঁথে নতুন বার্তাও দিচ্ছে।
ফুটবল বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যেমন উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়, তেমনি বাংলাদেশেও ফুটবলপ্রেমীদের উচ্ছ্বাসের কমতি নেই। সেই উচ্ছ্বাসকে ভিন্ন মাত্রা দিতে ঢাকার সাভার উপজেলার আমিনবাজার এলাকায় নেওয়া হয়েছে একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। গাবতলী সেতুর একাংশজুড়ে টাঙানো হয়েছে আগামী ফুটবল বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী ৪৮টি দেশের পতাকা। এর সঙ্গে শোভা পাচ্ছে বাংলাদেশের লাল-সবুজের জাতীয় পতাকাও।
স্থানীয় তরুণদের উদ্যোগে বাস্তবায়িত এই আয়োজন ইতোমধ্যে এলাকাজুড়ে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। সেতুর দুই পাশে সারিবদ্ধভাবে উড়তে থাকা বিভিন্ন দেশের রঙিন পতাকা পথচারী ও দর্শনার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। প্রতিদিনই অসংখ্য মানুষ সেখানে ভিড় করছেন, ছবি তুলছেন এবং বিশ্বকাপের আবহ উপভোগ করছেন।
নতুন ভিসি নিয়োগ প্রত্যাখ্যান করে ডুয়েটে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
১৫ মে ২০২৬
বিশ্বকাপ এলেই সাধারণত ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, জার্মানি, ফ্রান্স, স্পেন কিংবা ইংল্যান্ডের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা যায়। তবে আমিনবাজারের এই উদ্যোগ সেই প্রতিদ্বন্দ্বিতার বাইরে গিয়ে ফুটবলকে একটি বৈশ্বিক উৎসব হিসেবে উদযাপনের বার্তা দিচ্ছে। এখানে কোনো একক দেশের আধিপত্য নয়, বরং বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া সব দেশের প্রতি সম্মান ও ভালোবাসার প্রতিফলন ঘটেছে।
সেতুর পাশে ঘুরতে আসা অনেক দর্শনার্থী জানিয়েছেন, একসঙ্গে এতগুলো দেশের পতাকা দেখতে পাওয়া সত্যিই আনন্দের। বিভিন্ন দলের সমর্থকদেরও দেখা গেছে নিজেদের প্রিয় দেশের পতাকার সামনে দাঁড়িয়ে ছবি তুলতে এবং বন্ধু-পরিবারের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করতে। তাদের প্রত্যাশা, আসন্ন বিশ্বকাপে নিজেদের পছন্দের দল সেরা সাফল্য অর্জন করবে।
স্থানীয়দের মতে, এই আয়োজনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো বাংলাদেশের জাতীয় পতাকাকে সব দেশের পতাকার সঙ্গে স্থান দেওয়া। এর মাধ্যমে ফুটবলপ্রেমীরা একটি স্বপ্নের কথাও তুলে ধরেছেন—একদিন বাংলাদেশের লাল-সবুজের পতাকাও ফুটবল বিশ্বকাপের মূল আসরে উড়বে। যদিও সেই লক্ষ্য এখনও অনেক দূরের, তবুও দেশের ফুটবলের উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বের আশা বুকে ধারণ করেই তারা বিশ্বকাপ উৎসব উদযাপন করছেন।
বিশ্বকাপকে ঘিরে আমিনবাজারের এই ব্যতিক্রমী আয়োজন ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রশংসা কুড়িয়েছে। অনেকেই এটিকে ফুটবলপ্রেম, সম্প্রীতি এবং বাংলাদেশের তরুণ সমাজের ইতিবাচক উদ্যোগের একটি অনন্য উদাহরণ হিসেবে দেখছেন।
ফুটবল বিশ্বকাপের অপেক্ষা যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে উন্মাদনা। আর সেই উন্মাদনাকে রঙিন করে তুলতে গাবতলী সেতুর ওপর উড়তে থাকা ৪৮ দেশের পতাকা যেন ফুটবলপ্রেমীদের জন্য এক অনন্য মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে।
