জুলাই আন্দোলনের উত্তাল সময়ে রাজধানীর মিরপুর-১০ এলাকায় রক্তমাখা বাংলাদেশের পতাকা হাতে যে তরুণের ছবি সারা দেশে আলোড়ন তুলেছিল, তিনি ছিলেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল সরকারি বাংলা কলেজ শাখার আহ্বায়ক সদস্য আজিজুর শেখ। আন্দোলনের সামনের সারিতে থেকে আহত হলেও, দীর্ঘ দুই বছর ধরে তার জীবনসংগ্রাম ও বাস্তবতার খবর জানতেন না অনেকেই।
এরপর গত ১০ এপ্রিল দেশের পত্র-এর ফেসবুক পেজে প্রকাশিত হয় “সিএনজি চালিয়ে পড়াশোনা, বাংলা কলেজের শিক্ষার্থী আজিজুরের অবিশ্বাস্য সংগ্রাম!” শিরোনামের একটি মানবিক প্রতিবেদন। প্রকাশের পরপরই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলে। হাজারো দর্শক একজন আহত আন্দোলনকর্মীর সংগ্রামী জীবনের গল্প নতুন করে জানতে পারেন।
এদিকে সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, “জুলাইয়ে শহীদ ও আহতদের যথাযথ মূল্যায়ন ও পুনর্বাসন করা সরকারের দায়িত্ব।” সেই বক্তব্যের বাস্তব প্রতিফলন হিসেবে আজিজুর শেখের দাবি অনুযায়ী, দেশের পত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদনটি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসে।
রেললাইনে বালুভর্তি ট্রাক ফেঁসে যাওয়ায় ঢাকা-যমুনা সেতু রুটে ট্রেন চলাচল এক ঘন্টা বিঘ্নি
০৫ মে ২০২৬
নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক পোস্টে আজিজুর শেখ জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ড. আমান, ড. হাসান ও তাদের টিম তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে তাকে সাক্ষাতের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়। সেখানে তার বর্তমান জীবন, পড়াশোনা, পারিবারিক অবস্থা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত কথা হয়।
আজিজুর শেখ লিখেছেন, “স্যার আমাকে জানিয়েছেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমার সংগ্রাম ও কাজের প্রতি সম্মান করেন এবং আমার পাশে দাঁড়াতে চান। সত্যি কখনো ভাবিনি দেশের সরকারপ্রধান আমার খোঁজ নেবেন। আজ আমি অনেক আবেগাপ্লুত। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আন্তরিক ধন্যবাদ। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন।”
দীর্ঘদিন আলোচনার বাইরে থাকা এক আহত আন্দোলনকর্মীর সংগ্রামের গল্প আবারও সামনে নিয়ে আসে দেশের পত্র-এর মানবিক প্রতিবেদন। আজিজুর শেখের ভাষ্য অনুযায়ী, সেই প্রতিবেদন প্রকাশের পরই তার জীবনে নতুন আশার আলো জ্বলে ওঠে এবং সংশ্লিষ্ট মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
একজন আহত আন্দোলনকর্মীর জীবনসংগ্রাম তুলে ধরা একটি মানবিক প্রতিবেদন যে কখনো কখনো বাস্তব পরিবর্তনের পথও তৈরি করতে পারে—আজিজুর শেখের ঘটনাটি তারই একটি উদাহরণ হিসেবে আলোচনায় এসেছে।
