দেশের মানুষের কাছে ‘কাপড়ের রাজ্য’ নামে খ্যাত নরসিংদী জেলার কাপড়ের এই বাজার। জেলার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত বাবুরহাট বাজার বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন ও বৃহৎ বস্ত্রপণ্য পাইকারি বিক্রয় কেন্দ্র হিসেবে দেশব্যাপী পরিচিত। শতবর্ষের ঐতিহ্য ধারণ করা বাবুরহাট দেশের বস্ত্রশিল্পে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।
প্রতি সপ্তাহের বৃহস্পতিবার থেকে রবিবার পর্যন্ত বাজারের ব্যবসায়িক কার্যক্রম চলমান থাকে। এই চারদিনে বাজারটি হাজার হাজার পাইকার, খুচরা বিক্রেতা ও সাধারণ ক্রেতার পদচারণায় মুখর থাকে।
নরসিংদী সদর উপজেলার অন্তর্গত বাবুরহাট বাজারটি জেলা শহর থেকে প্রায় ২ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত। ঢাকা থেকে রেলপথে মাত্র ১ ঘণ্টার দূরত্বের কারণে এটি ব্যবসায়ীদের কাছে অত্যন্ত সুবিধাজনক। রেলস্টেশন ও বাসস্ট্যান্ড থেকে বাজারে আসা-যাওয়া সহজ ও স্বল্প খরচে হওয়ায় এর বাণিজ্যিক গুরুত্ব ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে।
নিজের মাথায় গুলি করে নারী পুলিশ সদস্যের কনস্টেবল স্বামীর আত্নহত্যা
১৯ এপ্রিল ২০২৬
বাজারের বৈশিষ্ট্য ও কার্যক্রম বিশেষায়িত বস্ত্রপণ্যের বিপণন বাজারটিতে দেশীয় তাঁত ও কারখানায় তৈরি লুঙ্গি, শাড়ি, থ্রি-পিস, গামছা, পাঞ্জাবি, বাচ্চাদের পোশাক, হ্যান্ডলুম কাপড় ইত্যাদি বিপুল পরিমাণে পাইকারি হারে বিক্রি হয়।
পরিসর ও পরিকাঠামো অনুযায়ী, বাজারটিতে রয়েছে এক হাজারেরও বেশি দোকান ও গুদামঘর। প্রতিবছর নতুন ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তারা এখানে ব্যবসা শুরু করেন। রবিবার ও বৃহস্পতিবার সপ্তাহের প্রধান হাটবার হিসেবে পরিচিত।
বহুমুখী কর্মসংস্থানের দিক থেকে, দোকান সহকারী, গুদাম শ্রমিক, পরিবহন কর্মী, তাঁতি, সেলসম্যানসহ কমপক্ষে ১০ হাজার মানুষ এই বাজারকে কেন্দ্র করে জীবিকা নির্বাহ করেন।
আঞ্চলিক ও জাতীয় সরবরাহ কেন্দ্র কিশোরগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইলসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পণ্য আসে এবং এখান থেকে ছড়িয়ে পড়ে দেশব্যাপী। এটি এখন একটি জাতীয় পাইকারি বিপণন কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত।
সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ অবকাঠামোগত দুর্বলতায়, বাজার এলাকায় পর্যাপ্ত পার্কিং ব্যবস্থা না থাকায় যানজট নিত্যদিনের ঘটনা। বর্ষাকালে জলাবদ্ধতা ও অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা ব্যবসায়ীদের ভোগান্তির কারণ।
বিদ্যুৎ ও অগ্নিনিরাপত্তা অনেক গুদামে নেই পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ ও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা-ফলে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি থেকে যায়।
অভিযোগ রয়েছে, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী নিম্নমানের বা নকল পণ্য সরবরাহ করে বাজারের সুনাম ক্ষুণ্ন করছে।
বাবুরহাট বাজার শুধুমাত্র একটি পাইকারি বিপণন কেন্দ্র নয়- এটি নরসিংদীর অর্থনীতির চালিকাশক্তি ও হাজারো পরিবারের জীবিকার উৎস। সঠিক পরিকল্পনা ও সরকারি সহায়তা পেলে এই ঐতিহ্যবাহী বাজারটি দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম সফল বস্ত্র বাজারে পরিণত হতে পারে মন্তব্য করছেন ব্যবসায়ীরা।
