মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মো. নুরুল করিম ভূঁইয়া। তিনি বলেছেন, মানব পাচার রোধে নিজেদের সচেতন হওয়ার পাশাপাশি অন্যদেরও সচেতন করতে হবে। কারণ এ অপরাধের ফলে দেশের তরুণদের স্বপ্ন ভেঙে যাচ্ছে এবং জাতীয় সম্পদের অপচয় ঘটছে।

সোমবার (৮ জুন) বেলা ১১টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভাওয়াল সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অস্ট্রেলিয়া সরকারের সহায়তায় ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের অধীনে পরিচালিত ‘ম্যাস ক্যাম্পেইন টু কমব্যাট হিউম্যান ট্রাফিকিং অ্যান্ড পিপল স্মাগলিং’ প্রকল্পের আওতায় কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়।
গাজীপুরে রহস্যময় হ্যান্ডবিল, সহিংসতার শঙ্কা
১৭ মে ২০২৬
জেলা প্রশাসক বলেন, আমরা নিজে বাঁচব, অন্যকে বাঁচাব, নিজে সচেতন হব, অন্যকেও সচেতন করব। মানব পাচারকারীরা মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে মানুষকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলছে। এর ফলে অনেকেই ভয়াবহ নির্যাতন ও শোষণের শিকার হচ্ছেন।
কর্মশালায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে গাজীপুরের সিভিল সার্জন ডা. মামুনুর রহমান বলেন, মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে মানুষকে পাচার করা হয়। এতে ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। দক্ষতা অর্জন ছাড়া বিদেশ যাওয়ার প্রবণতা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। তিনি ইউনিয়ন পর্যায়ে কাউন্টার ট্রাফিকিং কমিটিগুলো (সিটিসি) আরও কার্যকর করার পাশাপাশি মানব পাচার প্রতিরোধে গণমাধ্যমের প্রচার বাড়ানোর আহ্বান জানান।
গাজীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আবু খায়ের বলেন, নিরাপদ অভিবাসন সম্পর্কে সচেতনতার অভাবে অনেকেই দালালচক্রের খপ্পরে পড়ছেন। বিদেশফেরত ব্যক্তিদের একটি তথ্যভিত্তিক ডেটাবেজ তৈরি করা গেলে নিরাপদ অভিবাসন প্রক্রিয়া আরও সহজ হবে।
তিনি আরও বলেন, অনেকেই বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই বিপুল পরিমাণ অর্থ লেনদেন করেন। ফলে পরবর্তীতে অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ জটিল হয়ে পড়ে।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) তানিয়া তাবাসসুমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ব্র্যাক মাইগ্রেশন কর্মসূচির ম্যানেজার শায়লা শারমিন।
অনুষ্ঠানে জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, কমিউনিটি লিডার, শিক্ষক, ধর্মীয় নেতা, জনপ্রতিনিধি এবং মানব পাচারের শিকার ভুক্তভোগীরা অংশ নেন। এ সময় তারা মানব পাচারের ভয়াবহতা এবং নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিতকরণে করণীয় বিষয়ে নিজেদের অভিজ্ঞতা ও মতামত তুলে ধরেন।
উল্লেখ্য, বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক দীর্ঘদিন ধরে নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিতকরণ এবং মানব পাচার প্রতিরোধে দেশব্যাপী বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।
