লে. কর্নেল মো: রুহুল আমীন (অব:)
পারস্য উপসাগরে অবস্থিত হরমুজ প্রণালী ইরান ও ওমানের মধ্যবর্তী একটি সরু জলপথ, যা বর্তমানে ইরান যুদ্ধের একটি স্পর্শকাতর কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। এই জলপথ দিয়ে বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের এক পঞ্চমাংশ পরিবহন হয়। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরপরই ইরান এই প্রণালী কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে, যার ফলে হাজার হাজার পণ্যবাহী জাহাজ সমুদ্রে আটকা পড়েছে এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে।
হরমুজ প্রণালীর সবচেয়ে সরু অংশের দৈর্ঘ্য মাত্র তেত্রিশ কিলোমিটার। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে এই জলপথটি পুরোপুরি ইরানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র এই অবরোধ ভাঙার জন্য রণতরী পাঠালেও ইরানের মিসাইল ও ড্রোনের শক্ত প্রতিরোধের মুখে তাদের পিছু হটতে হয়েছে। এমনকি পরিস্থিতি সামাল দিতে যুক্তরাষ্ট্র স্থলবাহিনীর মাধ্যমে আক্রমণের পরিকল্পনা করলেও ইরানের ব্যাপক সামরিক প্রস্তুতির কারণে তা বাস্তবায়ন করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
এই অবরোধের ফলে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে। তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় ইউরোপ ও আমেরিকায় জ্বালানির দাম দ্বিগুণ হয়ে গেছে। এর প্রভাব পড়েছে নিত্যপণ্যের দাম এবং ব্যবসা বাণিজ্যের ওপরও। যুক্তরাষ্ট্র ন্যাটো ও উপসাগরীয় মিত্রদের সাহায্য চাইলেও কেউ সরাসরি এই সংঘাতে জড়াতে রাজি হচ্ছে শাহ। বরং কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের ওপর জোর দিচ্ছে আন্তর্জাতিক মহল।
হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট এই সংকট আধুনিক যুদ্ধের একটি নতুন রূপ তুলে ধরেছে, যেখানে শুধু অস্ত্র দিয়ে নয়, বরং ভৌগোলিক অবস্থান ও অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণ দিয়েও শত্রুকে পরাস্ত করা যায়। এই অবরোধ যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে তা যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ও বৈশ্বিক আধিপত্যের ওপর বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
