বিগত সরকারের আমলে মেগা প্রকল্পের নামে যে লুটপাট হয়েছে, তার কড়া সমালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, এসব প্রকল্পে অনিয়ম আর ঋণের বোঝা এখন দেশের ২০ কোটি মানুষের ঘাড়ে এসে চেপেছে। সোমবার তেজগাঁওয়ে তার কার্যালয়ে পুলিশ কর্মকর্তাদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রী রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উদাহরণ দিয়ে জানান, সেখানে বিদেশিদের থাকার জন্য ৮০ হাজার টাকা দিয়ে একটি বালিশ আর ৫ লাখ টাকা দিয়ে ড্রেসিং টেবিল কেনা হয়েছে। একই ধরণ এর প্রকল্প পার্শ্ববর্তী দেশে করতে ১৪ হাজার কোটি টাকা লাগলেও আমাদের এখানে খরচ হয়েছে প্রায় ৯৬ হাজার কোটি টাকা।
কর্ণফুলী টানেল নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, টানেলের মুখে গাছ লাগানোর কথা বলে ৫০ কোটি টাকা তোলা হয়েছে ঠিকই, কিন্তু বাস্তবে সেখানে কোনো গাছ নেই। এছাড়া টানেলের অন্যপাশে দামী অ্যাপার্টমেন্ট বানিয়ে শত শত কোটি টাকা অপচয় করা হয়েছে।
অপরাধ দমনে রাজনৈতিক পরিচয় নয়, নিরপেক্ষ ভূমিকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
১২ মে ২০২৬
এলজিআরডির দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু পিরোজপুর জেলাতেই ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে ৩৫ হাজার কোটি টাকা লুট করা হয়েছে। আইনি জটিলতায় এখন সেসব কাজ বন্ধ। তিনি আরও জানান যে একটি জেলাতেই অন্তত ৬ হাজার কোটি টাকার কোনো হদিস পাওয়া যাচ্ছে না।
পদ্মা সেতুর ব্যয়ের সাথে যমুনা সেতু বা ভারতের ভূপেন হাজারিকা সেতুর তুলনা করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, যেখানে ১৫ হাজার কোটি টাকায় এমন সেতু করা সম্ভব, সেখানে আমাদের খরচ হয়েছে ৫৪ থেকে ৫৬ হাজার কোটি টাকা। এই বাড়তি খরচের টাকা দিয়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও দেশের সশস্ত্র বাহিনীর আরও বড় উন্নয়ন করা যেত। এই ঋণের বোঝা এখন দেশের প্রত্যেকটি মানুষকে বইতে হচ্ছে।
পুলিশ কর্মকর্তাদের আবাসন, যাতায়াত ও প্রযুক্তির সমস্যা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসব সমাধানে সরকার আন্তরিক। তবে আগের লুটপাটের কারণে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা এখন বেশ নাজুক, তাই সবাইকে কিছুটা ধৈর্য ধরতে হবে।
অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ, স্বরাষ্ট্র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী এবং আইজিপি আলী হোসেন ফকিরসহ প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
