গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রায় অবস্থিত কালিয়াকৈর সরকারি কলেজের লেকে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় বাজারের বর্জ্য ও আবর্জনা ফেলার কারণে ভয়াবহ পরিবেশ দূষণের সৃষ্টি হয়েছে। লেকজুড়ে জমে থাকা কচুরিপানা, প্লাস্টিক ও পচনশীল বর্জ্য থেকে ছড়িয়ে পড়ছে তীব্র দুর্গন্ধ। একই সঙ্গে বেড়েছে মশার উপদ্রব, যা শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট সবার জন্য চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
চলমান এইচএসসি পরীক্ষার সময় এ পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক রূপ নিয়েছে। পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ, পরীক্ষার হলে বসেও মশার কামড় সহ্য করতে হচ্ছে। দুর্গন্ধের কারণে মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে মশার উপদ্রব থেকে রক্ষা পেতে কয়েল ব্যবহার করতে হচ্ছে।
কুসংস্কারের কারণেই হামের প্রাদুর্ভাব বেড়েছে: রিজভী
০৭ এপ্রিল ২০২৬
সরেজমিনে দেখা যায়, কলেজের একাডেমিক ভবন, প্রশাসনিক ভবন ও অনার্স ভবনের পাশের লেকের বড় অংশজুড়ে কচুরিপানা, প্লাস্টিক এবং বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য জমে রয়েছে। দীর্ঘদিন পরিষ্কার না করায় লেকের পানি দূষিত হয়ে পড়েছে। এতে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন মশাবাহিত রোগের ঝুঁকিও বাড়ছে।
এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা জানান, পরীক্ষার সময় মশার কামড়ে বারবার মনোযোগ নষ্ট হচ্ছে। দুর্গন্ধের কারণে অনেক সময় পরীক্ষার হলে স্বাভাবিকভাবে বসে থাকাও কষ্টকর হয়ে পড়ে।
কলেজ শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক সেলিম হোসেন বলেন, এটি শুধু পরিবেশগত সমস্যা নয়, জনস্বাস্থ্যের জন্যও বড় হুমকি। দ্রুত লেকটি পরিষ্কার করে বর্জ্যমুক্ত করা হলে মশার উপদ্রব কমবে, পরিবেশের উন্নতি হবে এবং ভবিষ্যতে সেখানে মাছ চাষেরও সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।
কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. আহমাদুল্লাহ বলেন, শিক্ষার্থীদের জন্য স্বাস্থ্যকর ও নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে কলেজের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।
এদিকে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা অবিলম্বে লেক থেকে বর্জ্য অপসারণ, সংস্কার কার্যক্রম শুরু এবং বাজারের ময়লা-আবর্জনা ফেলা বন্ধে প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
