গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলায় স্ত্রী, তিন কন্যাসন্তান ও শ্যালককে হত্যার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত ফুরকান মিয়ার ঘনিষ্ঠ দুই ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। শনিবার (৯ মে) উপজেলার আমরাইদ এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয় বলে গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে। তদন্তের স্বার্থে আটক ব্যক্তিদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।
এর আগে শুক্রবার দিবাগত রাতে কাপাসিয়া সদর ইউনিয়নের রাউতকোনা গ্রামে প্রবাসী মনির হোসেনের বাড়িতে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত ফুরকান মিয়া পলাতক রয়েছেন।
নিহতরা হলেন- ফুরকানের স্ত্রী শারমিন (৩০), কন্যা মীম (১৫), মারিয়া (৮), ফারিয়া (২) এবং শ্যালক রসুল মিয়া (২২)। ফুরকান মিয়া গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার মেরী গোপীনাথপুর গ্রামের আতিয়ার রহমান মোল্লার ছেলে। তিনি পেশায় প্রাইভেটকার চালক ছিলেন এবং প্রায় এক বছর আগে ওই বাড়ির নিচতলায় ভাড়া নেন।
ইমামের কন্যা অপহরণ: ধোঁয়াশার আড়ালে নৈতিকতা ও জবাবদিহির প্রশ্ন!
১৯ এপ্রিল ২০২৬
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তিন শিশুর মরদেহ ঘরের মেঝেতে পড়ে ছিল। এছাড়া রসুল মিয়ার মরদেহ বিছানার ওপর এবং শারমিনের মরদেহ ঘরের জানালার গ্রিলের সঙ্গে বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, পারিবারিক বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটতে পারে। ঘটনাস্থল থেকে দেশীয় মদের খালি বোতল ও কোমল পানীয়ের বোতল উদ্ধার করা হয়েছে। থানা পুলিশ, ডিবি, সিআইডি, পিবিআই ও ক্রাইম সিন ইউনিট ঘটনাটি তদন্ত করছে এবং বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে।
পুলিশ সূত্রে আরও জানা যায়, শনিবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে নিহতদের এক স্বজনকে ফোন করে ফুরকান মিয়া হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি জানান এবং পালিয়ে যাওয়ার কথাও উল্লেখ করেন।
ঘটনার পর এলাকায় উদ্বেগ ও শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন সদস্যরা।
