বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক নিবন্ধন নিয়ে দীর্ঘদিনের চলমান মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়েছে। সোমবার (১১ মে) বিষয়টি নিশ্চিত করেন দলটির জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।
আইনি নথি অনুযায়ী, ২০০৮ সালের নভেম্বরে নির্বাচন কমিশন (ইসি) জামায়াতকে রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধন দেয়। তবে এই নিবন্ধনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ২০০৯ সালে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন কয়েকজন ব্যক্তি।
নির্বাচিত দূরপাল্লার বাসযাত্রীদের জন্য নতুন ভাড়ার তালিকা প্রকাশ
২৫ এপ্রিল ২০২৬
পরবর্তীতে ২০১৩ সালের ১ আগস্ট হাইকোর্টের বৃহত্তর বেঞ্চ জামায়াতের নিবন্ধন অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেয়। একই সঙ্গে আপিল করার অনুমতি দেওয়া হয়, যা পরে আপিল প্রক্রিয়ায় রূপ নেয়। সেই বছরের ৫ আগস্ট আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত নিবন্ধন স্থগিতের আবেদন খারিজ করেন।
২০১৮ সালের ৭ ডিসেম্বর নির্বাচন কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করে। এরপর দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে ২০২৩ সালের ১৯ নভেম্বর আপিল বিভাগে জামায়াতের আপিল ও লিভ টু আপিল খারিজ হয়, তবে পরে তা পুনরুজ্জীবিত করার আবেদন গ্রহণ করা হয় ২০২৪ সালের ২২ অক্টোবর।
পুনরায় শুনানির পর ২০২৪ সালের ৩ ডিসেম্বর থেকে আপিল বিভাগের কার্যক্রম শুরু হয়। পরবর্তীতে প্রতীক বরাদ্দ সংক্রান্ত বিষয়ও একই সঙ্গে শুনানির জন্য যুক্ত করা হয়।
সবশেষে ১ জুন আপিল বিভাগ রায় ঘোষণা করেন, যার পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি এখন প্রকাশ করা হয়েছে। এই রায়ের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের আইনি জটিলতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় সম্পন্ন হলো।
এদিকে ২০২৪ সালের ১ আগস্ট আগের আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবিরকে নিষিদ্ধ করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছিল। তবে ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর সেই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়। ফলে দলটির রাজনৈতিক কার্যক্রম আবারও আইনি ও প্রশাসনিক আলোচনায় ফিরে আসে।
