রাজধানীর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেল সংকট ও দীর্ঘ লাইনের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। কেউ ১৬ ঘণ্টা ধরে অপেক্ষা করেও তেল পাননি, কেউ আবার রাতভর রাস্তায় গাড়ির পাশে শুয়ে বা ঘুমিয়ে সময় পার করেছেন। গরম, মশার কামড় আর অনিশ্চয়তার মধ্যেও চলছে তেল সংগ্রহের এই দুর্ভোগ। রাজধানীর মিরপুর, মহাখালী, বিজয় সরণিসহ বিভিন্ন এলাকায় এমন চিত্রই দেখা গেছে।
রাজধানীর ইসিবি চত্বর থেকে মিরপুরের কালশীর দিকে যাওয়া মাটিকাটা সড়কের সুমাত্রা ফিলিং স্টেশনের সামনে দেখা যায় সবচেয়ে করুণ চিত্র। সেখানে এক ব্যক্তি চাদর বিছিয়ে রাস্তার ওপর ঘুমিয়ে আছেন। মাথার নিচে ব্যাগ, পাশে পানির বোতল, আর মশার কামড় থেকে বাঁচতে জ্বলছে কয়েল। ১৬ ঘণ্টার বেশি অপেক্ষার ক্লান্তিতে তিনি সেখানে ঘুমিয়ে পড়েন।
ঘুমন্ত ওই ব্যক্তির নাম রিফাত খান। তিনি জানান, গতকাল দুপুর থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন, কিন্তু এখনো তেল পাননি। তার ভাষায়, রাতটি ছিল জীবনের সবচেয়ে খারাপ রাত। গরম, মশার কামড় আর অনিশ্চয়তায় সময় কাটাতে হয়েছে শুধু অপেক্ষায়।
সন্ধ্যার মধ্যে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের শঙ্কা, নদীবন্দরে সতর্ক সংকেত!
১৯ এপ্রিল ২০২৬
একই ফিলিং স্টেশনে রাতভর ছোট-বড় শত শত যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। মোটরসাইকেল, প্রাইভেট কার, বাস, ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান—সব ধরনের যানবাহনই ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে আছে। অনেকেই গাড়ির ভেতর বা পাশে শুয়ে বিশ্রাম নিচ্ছেন, কেউ কেউ গল্প করে বা মোবাইল ফোনে সময় কাটাচ্ছেন।
অফিস শেষে তেল নিতে এসে বিপাকে পড়েছেন মোহাম্মদ আলিমুজ্জামান। তিনি প্রায় সাড়ে ১০ ঘণ্টা অপেক্ষার পর তেল পান। তিনি জানান, অল্প অল্প করে সামনে এগোতে হয়েছে, অনেক সময় গাড়ি ঠেলেও লাইন এগিয়ে নিতে হয়েছে।
একই অভিজ্ঞতা হয়েছে অনেকেরই। প্রাইভেট কার চালক শাহীন জানান, গাড়ির তেল শেষ হয়ে যাওয়ায় তিনি নিজেই ঠেলে লাইনে এগিয়েছেন। মহাখালী থেকে শুরু করে বিজয় সরণি পর্যন্ত দীর্ঘ কয়েক কিলোমিটার লাইন ছিল বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা।
নতুন মোটরসাইকেল কিনেও বিপাকে পড়েছেন মোহাম্মদ আলিফ। তিনি বলেন, শখের বাইক এখন তার কাছে বোঝা মনে হচ্ছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও তিনি তেল সংগ্রহ করতে পারেননি।
আরেক মোটরসাইকেল চালক শাহরিয়ার সম্রাট বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি ও মজুতদারির কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। তার মতে, বাজারে নিয়ন্ত্রণ না থাকায় সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
আগারগাঁওয়ের হাসান ফিলিং স্টেশনেও দেখা গেছে একই চিত্র। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও অনেকে তেল পাননি। নুরুল ইসলাম নামের এক ব্যবসায়ী জানান, তিনি একাধিক স্টেশনে চেষ্টা করেও তেল পাননি। পরে নতুন লাইনে দাঁড়িয়েও ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
পরীবাগের মেঘনা ফিলিং স্টেশনেও রাতভর অপেক্ষা করেছেন অনেক চালক। ব্যবসায়ী আবু বক্কর জানান, মালপত্র নিয়ে আসার পর জ্বালানি শেষ হয়ে যাওয়ায় তিনি পাম্পেই রাত কাটাতে বাধ্য হন।
রাজধানীর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন—ট্রাস্ট, তালুকদার, সিটি, মেঘনা ও সুমাত্রা—সবখানেই দেখা গেছে দীর্ঘ যানবাহনের সারি। কোথাও লাইন এক থেকে আড়াই কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরবরাহ ঘাটতি, হঠাৎ চাহিদা বৃদ্ধি এবং ব্যবস্থাপনার সমস্যার কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তবে ভুক্তভোগীদের দাবি, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে নগরজীবনের দুর্ভোগ আরও বাড়বে।
