প্রচ্ছদ সাহিত্য ন্যাটোর সদস্য তুরস্ক কি আসলেই ইসরায়েল আক্রমণ করতে পারে? নাকি ফাঁকা বুলি এরদোগানের

ন্যাটোর সদস্য তুরস্ক কি আসলেই ইসরায়েল আক্রমণ করতে পারে? নাকি ফাঁকা বুলি এরদোগানের

ডেইলি গাজীপুর ডেস্ক
সম্প্রতি ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডে ক্ষুব্ধ হয়ে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগান বলেন, “যদি পাকিস্তান মধ্যস্থতা না করতো, তাহলে আমরা ইসরায়েলকে ওদের উপযুক্ত জায়গা বুঝিয়ে দিতাম।”
এই কথার মাধ্যমে তিনি ইসরায়েলে সরাসরি সামরিক অভিযানের হুমকি দিয়েছেন। কিন্তু চাইলেও ইসরায়েলে সরাসরি সামরিক অভিযান পরিচালনা করা তুরস্কের জন্য একদমই সহজ নয়।
প্রথমত, তুরস্ক যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ন্যাটোর সদস্য। একইসাথে যুক্তরাষ্ট্র হলো ইসরায়েলের সবচেয়ে বড়ো সহায়তাকারী বা অভিভাবক। কাজেই, ইসরায়েলে সামরিক অভিযানের যেকোন উদ্দ্যোগ যুক্তরাষ্ট্রের সাথে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি করবে এবং ন্যাটোর অস্তিত্বকে হুমকির মুখে ফেলবে।
দ্বিতীয়ত, ইসরায়েলের সাথে তুরস্কের সরাসরি স্থলসীমানা নেই। ফলে, শক্তিশালী ইসরায়েলে আক্রমণ পরিচালনা করার জন্য দরকার পর্যাপ্ত পরিমাণ ‘উভচর জাহাজ’ এবং ‘বিমানবাহী রণতরী’। যার কোনটিই পর্যাপ্ত পরিমাণে তুরস্কের কাছে নেই।
তাহলে এরদোগানের হুমকি কি শুধুই ফাঁকা বুলি? না। মধ্যপ্রাচ্য বিশেষজ্ঞ ‘ইয়োনি বিন মেনাচেম’ এর মতে, তুরস্ক চাচ্ছে পরবর্তী ‘ইরান’ হতে। অর্থাৎ, ইরানের মতোই আঞ্চলিক প্রভাবশালী শক্তি হয়ে উঠতে।
উক্ত বিশেষজ্ঞ মনে করেন, তুরস্ক চায় ইরানের ‘শিয়া প্রতিরোধ অক্ষ’র মতো ‘সুন্নি অক্ষ’ প্রতিষ্ঠা করতে। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে তুরস্ক, পাকিস্তান, সৌদি আরব এবং মিশর পরস্পর সামরিক সহযোগিতা বাড়িয়ে চলেছে। সম্প্রতি সৌদি আরবে নিজেদের সেনাবাহিনীও পাঠিয়েছে পাকিস্তান।
এই বিশেষজ্ঞ আরও মনে করেন, চলমান যুদ্ধে ইরান দুর্বল হয়ে পড়লে মধ্যপ্রাচ্যে ক্ষমতার শূন্যতা তৈরি হবে। সে সুযোগই কাজে লাগাতে চায় তুরস্ক। এর মাধ্যমে নতুন যে ‘সুন্নি অক্ষ’ গঠিত হবে, তা ইসরায়েলের জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে।
এখানে মজার বিষয় হলো, এর আগে তিনবার মধ্যপ্রাচ্যের সুন্নি অধ্যুষিত দেশগুলোর সাথে ইসরায়েলের যুদ্ধ হয়েছে। দেশগুলো হলো, মিশর, জর্ডান, সিরিয়া, লেবানন, সৌদি আরব, ইরাক, কুয়েত ইত্যাদি। এবং তিনবারই আরব দেশগুলো হেরেছে। যুদ্ধের সালগুলো হলো ১৯৪৮, ১৯৬৭, ১৯৭৩।
শেষ যুদ্ধ ১৯৭৩ সালের পর ইসরায়েল আরও অনেক শক্তিশালী হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে তারাই একমাত্র পারমাণবিক শক্তিধর দেশ। আর প্রযুক্তিগত উৎকর্ষে তাদের সমপর্যায়ে নেই কেউ। ফলে, তুরস্কের নেতৃত্বে আলাদা একটি ‘সুন্নি অক্ষ’ গঠনের পরিকল্পনা যদি থাকেও, তা কতোটা সফলতার মুখ দেখবে সে ব্যাপারে চিন্তার প্রয়োজন আছে।
ইসরায়েলের মতো শক্তিশালী রাষ্ট্রকে মোকাবিলা করতে প্রয়োজন ঐক্য। যতোদিন বিশ্বের মুসলিম সমাজ নিজেদের ভেদাভেদ ভুলে একই শত্রুর বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হতে না পারবে, ততোদিন আরব দেশগুলোর মুক্তির পথ সংকীর্ণই থাকবে।
ফন্ট
লাইন
সেভ