বাংলা নববর্ষের দিনেই রাজনৈতিক বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। টাঙ্গাইলে এক জনসভায় তিনি বলেন, স্বৈরাচার বিদায় নিলেও তার প্রভাব এখনো পুরোপুরি দূর হয়নি। দেশকে এগিয়ে নিতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে টাঙ্গাইলের সন্তোষে মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত জনসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, “স্বৈরাচার পালিয়ে গেছে, কিন্তু স্বৈরাচারের ভূত এখনও এই দেশে রয়ে গেছে।” তার এই বক্তব্যে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
সাবেক প্রধান বিচারপতির জামিন স্থগিত আবেদনের শুনানি ২৬ এপ্রিল
০৭ এপ্রিল ২০২৬
সাম্প্রতিক উপনির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি উল্লেখ করেন, শেরপুর ও বগুড়ার নির্বাচনে বড় ধরনের কোনো সহিংসতা বা অনিয়মের খবর পাওয়া যায়নি। গণমাধ্যম পর্যালোচনা করে তিনি দাবি করেন, উল্লেখযোগ্য কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার সংবাদ সামনে আসেনি। তবে কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটলেও তা বড় আকার ধারণ করেনি।
এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, বাস্তবে যেখানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক, সেখানে না গিয়ে অন্যত্র ইচ্ছাকৃতভাবে উত্তেজনা সৃষ্টি করা হচ্ছে। বিশেষ করে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ এলাকায় পরিস্থিতি অস্থির করার চেষ্টা চলছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, অতীতে গণতন্ত্রের নামে অনেক অপশক্তি জনগণের স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ড চালিয়েছে। তাই বর্তমান সময়েও বিভ্রান্তি ছড়ানোর অপচেষ্টা থেকে দেশকে রক্ষা করতে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।
দেশকে নিজের ঠিকানা হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এই বাংলাদেশই আমাদের শেষ আশ্রয়। এই দেশকে গড়ে তোলার দায়িত্ব আমাদের সবার।” তিনি জনগণকে সঙ্গে নিয়ে একটি উন্নত ও প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
এর আগে, বিকেলে তিনি সন্তোষে অবস্থিত মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর মাজার জিয়ারত করেন। সেখানে পুষ্পস্তবক অর্পণ, ফাতেহা পাঠ ও বিশেষ মোনাজাতে অংশ নিয়ে এই বরেণ্য নেতার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে মন্ত্রিসভার সদস্য, স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। একই দিনে তিনি টাঙ্গাইলের শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে কৃষক কার্ড বিতরণ কর্মসূচিরও উদ্বোধন করেন।
নববর্ষের এই উৎসবমুখর দিনে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে যেমন রাজনৈতিক সতর্কবার্তা উঠে এসেছে, তেমনি দেশ গঠনে ঐক্য ও অংশগ্রহণের আহ্বানও স্পষ্ট হয়েছে।
